বিচার বিভাগকে পঙ্গু করা বরদাশত করব না: প্রধান বিচারপতি।
অল সারা-প্রান্তর ডেস্কঃ
নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে টানাপড়েনের জন্য আইন মন্ত্রণালয়কে দায়ী করে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বলেছেন, বিচার বিভাগকে পঙ্গু করার চেষ্টা তিনি মেনে নেবেন না।
বিচার বিভাগকে ঢেলে সাজানোর ক্ষেত্রে সরকারের মধ্য থেকে বাধা আসছে অভিযোগ করে তিনি মঙ্গলবার বগুড়ায় এক অনুষ্ঠানে এ হুঁশিয়ারি দেন।
বিচারপতি সিনহা বলেন, “বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের মলিন হওয়া আস্থা ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করছি। আমি অনেক আশা নিয়ে বিচার বিভাগকে ডিজিটালাইজড করে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করছি।”
এক্ষেত্রে বাধা আমলাদের কাছ থেকে আসছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীকেও ভুল বোঝানো হচ্ছে।
“তাদের কাছে যেন প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি কিছুই না।”
বিচার বিভাগকে এখনও আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিবেচনা করা হচ্ছে মন্তব্য করে প্রধান বিচারপতি বলেন, “বিচার বিভাগকে পঙ্গু করে দিচ্ছে ওরা। তারা মনে করে যেন প্রধান বিচারপতি কিছুই করবে না।”
“বিচার বিভাগ পঙ্গু হলে কোনো জাতিই মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। আমি এটা বরদাশত করব না,” উষ্মা প্রকাশ করে বলেন তিনি।
প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা দুই বছর আগে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে তার কথায় রাষ্ট্রের নির্বাহী ও বিচার বিভাগের মধ্যে টানাপড়েনের প্রকাশ ঘটেছে।
নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরিবিধির গেজেট প্রকাশ নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকে গত মাসের মাঝামাঝিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিচার বিভাগ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাকে পাশ কাটানো হয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সংসদ, বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগকে সমঝোতার মাধ্যমেই চলতে হবে। পরস্পরকে দোষারোপ করে একটি রাষ্ট্র সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হতে পারে না।
এর মধ্যেই আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিচারপতি সিনহাকে ইঙ্গিত করে বলেন, কোনো দেশে প্রধান বিচারপতিরা ‘প্রকাশ্যে এত কথা বলেন না’।
তার প্রতিক্রিয়ায় গত ৩০ এপ্রিল প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায়’ বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে বলেই তাকে কথা বলতে হচ্ছে।
এরপর মঙ্গলবার সংসদে জাতীয় পার্টির এক সংসদ সদস্য প্রধান বিচারপতির সমালোচনা করে বক্তব্যের পর বগুড়া সার্কিট হাউজে বিচার বিভাগীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য নিয়ে আসেন বিচারপতি সিনহা।
বিচার বিভাগে নিয়োগের ক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে টেলিফোনে কথা বলেছেন জানিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, তিনি আশা করছেন যে সরকার এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান করবে।
তিনি সারাদেশের বিচারালয়গুলোতে বিচার প্রার্থীদের, সাক্ষী ও জামিনপ্রাপ্তদের বিশেষ করে নারীদের জন্য বসার জায়গা এবং টয়লেটের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বগুড়ার জেলা ও দায়রা জজ মো. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম।
বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, পিডাব্লিউডির নির্বাহী প্রকৌশলী ছালাউদ্দিন আহম্মেদ, সিভিল সার্জন ডা. সামছুল হক, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফজলুল হক, বগুড়ার পিপি আব্দুল মতিন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি লুৎফে জাহিদ আল গালিব মৃদুল, সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক প্রমুখ।
প্রধান বিচারপতি বুধবার সকালে বগুড়ার জেলা জজ ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন। বৃহস্পতিবার তার জয়পুরহাট ও নওগাঁ সফরের কথা রয়েছে।
মন্তব্যসমূহ