ফেরত যাচ্ছে প্রতিভা অন্বেষণের দেড় কোটি টাকা।

অল খেলাধুলা সংবাদ:
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) প্রতিভা অন্বেষণ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির চেয়ে বেশি আগ্রহী স্থাপনা নির্মাণে- যুগ যুগ ধরে এমন অভিযোগ বিভিন্ন ফেডারেশন কর্মকর্তাদের। অভিযোগটি অসত্যও নয়; কিন্তু ক্রীড়া পরিষদ যখন বিভিন্ন খেলার প্রতিভা অন্বেষণের জন্য অর্থের ব্যবস্থা করল তখন কয়েকটি ফেডারেশন সে সুযোগ কাজে লাগাতে পারল না। এনএসসির তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচির ১৫ কোটি ১০ লাখ টাকার মধ্যে এখন ১ কোটি ৫২ লাখ ৬২ হাজার ১৮৮ টাকা ফেরত দিতে হচ্ছে সরকারকে।
তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা তুলে আনার লক্ষ্যে এনএসসি গত অর্থবছর ৩১ ফেডারেশনের মধ্যে বণ্টন করেছিল এই টাকা। ফেডারশনগুলোকে এনএসসি টাকা বণ্টন করেছিল চার কিস্তিতে। এক কিস্তির কার্যক্রম পরিচালনার পর সমন্বয় করলে ফেডারেশন পেত আরেক কিস্তির টাকা। ২৭টি ফেডারেশন কর্মসূচি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারলেও ব্যর্থ হয়েছে অ্যাথলেটিক, সাঁতার, ভারোত্তোলন ও টেনিস। ব্যর্থতার শীর্ষে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক ফেডারেশন।
অ্যাথলেটিকের জন্য বরাদ্দ ছিল সর্বোচ্চ ১ কোটি ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ফেডারেশনটি প্রথম কিস্তির ২২ লাখ ২৮ হাজার টাকা নিলেও কোনো কার্যক্রম না করার অভিযোগ উঠেছিল তাদের বিরুদ্ধে। প্রথম কিস্তিতে পাওয়া ওই টাকার হিসাব এখনও এনএসসিকে দিতে পারেনি ফেডারেশন। যে কারণে সবচেয়ে বেশি ৮৯ লাখ ১২ হাজার টাকা সরকারের কোষাগারে ফেরত যাচ্ছে অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের ব্যর্থতার কারণে।
একইভাবে ভারোত্তোলনের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩০ লাখ ২৮ হাজার ৭৫০ টাকা। ফেডারেশনটি নিয়েছিল প্রথম কিস্তির টাকা। ওই কিস্তির টাকা কোথায় কীভাবে খরচ করেছে ফেডারেশন সে হিসাব দিতে না পারায় আর কোনো টাকা পায়নি তারা। ফেডারেশনের বরাদ্দ থেকে ফেরত যাচ্ছে ২৪ লাখ ২৩ হাজার টাকা।
সাঁতার ফেডারেশন নিজ উদ্যোগে প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রম চালাচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরে। তারপরও এনএসসিও এই প্রকল্পে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেছিল। এ ফেডারেশনের জন্য বরাদ্দ ছিল ৬২ লাখ ৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে অর্ধেক টাকা পেলেও তার হিসাব দিতে পারেনি। যে কারণে সাঁতার ফেডারেশনের জন্য বরাদ্দকৃত টাকার মধ্যে ফেরত যাচ্ছে ৩১ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকা।
টেনিস ফেডারেশনের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩২ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ টাকা। এর মধ্যে তারা তিন কিস্তির টাকা উত্তোলন করে প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি করে। তবে শেষ কিস্তি পায়নি আগেরগুলোর হিসাবে দিতে না পারায়। ৮ লাখ ২৪ লাখ ৬৮৭ টাকা ফেরত গেছে এ খেলাটি থেকে।
যে ২৭ ফেডারেশন এ টাকা পেয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে তার মধ্যে ফুটবল ও শুটিং ফেডারেশনের চূড়ান্ত পর্ব এখনও বাকি। শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশন ৩০ এপ্রিলের মধ্যে কর্মসূচি শেষ করবে বলে জানিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে। ফুটবল ফেডারেশন এ কর্মসূচি থেকে ৬৫ জন খেলোয়াড় বাছাই করে বিকেএসপিতে তিন মাসের জন্য প্রশিক্ষণের কথা ছিল; কিন্তু ওই প্রশিক্ষণের কোনো খবর নেই।
মজার বিষয় হলো যে চারটি ফেডারেশনের টাকা ফেরত যাচ্ছে সবগুলোতেই এখন নতুন কমিটি। আর চার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের কথাও একই রকম, ‘আগের কমিটি এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা দায়িত্ব নিয়ে চেষ্টা করেছিলাম বাকি অর্থ উঠিয়ে কার্যক্রম চালাতে। কিন্তু এ অর্থ পাওয়া যায়নি।’
এ কর্মসূচির প্রধান সমন্বয়কারী বাদল রায় বলেন, ‘আমরা অনেক চেষ্টা করেছিলাম এ টাকা ফেরত না দিয়ে কাজে লাগাতে; কিন্তু সরকারি টাকা ব্যয়ের একটা নিয়মনীতি আছে। এ প্রজেক্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আমরা ৬ মাস বাড়িয়ে নিয়েছিলাম। তারপরও কয়েক মাস কেটে কেছে। তাই এই অব্যবহৃত টাকা ফেরত দিতেই হচ্ছে সরকারি কোষাগারে।’

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা রাজীব সম্পর্কে ৮টি অজানা তথ্য।

শরীরের হাড় ক্ষয় করে যে ৪ খাবার

করোনাভাইরাস: মৃত্যু ছাড়াল সাড়ে ৪ হাজার।