জার্মানির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন স্টাইনমায়ার।


অল সংবাদ ড‌‌েস্ক:
জার্মানির রাজধানী বার্লিনে রবিবার ১,২৬০ সদস্যের এক বিশেষ অ্যাসেম্বলিতে স্টাইনমায়ারকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয়৷ আগে থেকেই তাঁর প্রেসিডেন্ট হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত ছিল৷ আর ভোটাভুটিতে তাঁর কাছাকাছিও ছিলেন না অন্য কোন প্রার্থী৷ জার্মানির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইওয়াখিম গাউকের স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি৷ গাউকের বয়স এখন ৭৭ বছর৷ মূলত এই কারণেই তিনি দ্বিতীয়বার প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন৷

জার্মানির ১২তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্টাইনমায়ার নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ভাষণে স্টাইনমায়ার জার্মানিকে ‘আশার নোঙ্গর' উল্লেখ করে বলেন, দেশটির অন্যান্য দেশের কাছে পথিকৃৎ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে৷ তিনি বলেন, ‘‘জার্মানি অন্যদের সাহসী হতে উৎসাহ যোগায়, এটা এজন্য নয় যে সবকিছু এখানে ভালো চলছে, বরং আমরা দেখেয়েছি একটা দেশ কতটা উন্নতি করতে পারে৷''

ইউরোপে দক্ষিণপন্থি দলগুলোর উত্থান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বিরোধী মনোভাব বেড়ে যাওয়ার দিকে পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত দিয়ে স্টাইনমায়ার জানান, ইউরোপের স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্র রক্ষায় জার্মানিকে কাজ করতে হবে৷ তিনি বলেন, ‘‘আমাদের মূল্যবোধগুলো অভেদ্য নয়, তবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে সেগুলো শক্তিশালী৷''

যদিও ভোটাভুটির ব্যালট পেপারে আরো চারজন প্রতিদ্বন্দ্বীর নাম ছিল, তা সত্ত্বেও কার্যত প্রতীকী কিন্তু নৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রেসিডেন্ট পদে জার্মানির রাজনীতিবিদদের প্রথম পছন্দ ছিল স্টাইনমায়ার৷ নিজের দল সামাজিক গণতন্ত্রী পার্টি (এসপিডি) ছাড়াও চ্যান্সেলর ম্যার্কেল এবং তাঁর রক্ষণশীল দল (সিডিইউ/সিএসইউ)-ও স্টাইনমায়ারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন৷

গাজায় ধ্বংসের চিত্র স্বচক্ষে দেখলেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

গাজার পুনর্নির্মাণ জোরদার করার ডাক দিলেন স্টাইনমায়ার

গাজা সিটি’তে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্টাইনমায়ার গাজার অবরোধ তুলে নেওয়ার ডাক দেন - যুগপৎ ইসরায়েলের উপর রকেট নিক্ষেপ বন্ধ করার কথা বলেন৷

গাজায় ধ্বংসের চিত্র স্বচক্ষে দেখলেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

অতিথিকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা

গাজা সিটিতে ‘আসমা প্রেপ গার্লস এঅ্যান্ডবি’ স্কুলটি নতুন করে খোলা হলো৷ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাংক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার৷ তিনি এ’দিন গাজার মাছ-ধরার বন্দরটিও পরিদর্শন করেন৷

গাজায় ধ্বংসের চিত্র স্বচক্ষে দেখলেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সাত সপ্তাহ যুদ্ধের পরিণতি

গাজা স্ট্রিপে জাতিসংঘের চালিত স্কুলগুলিতে তিন লক্ষের বেশি উদ্বাস্তু আশ্রয় নেন – এদের অর্ধেকই ছিল শিশু৷ ২০১৪ সালের যুদ্ধে ইসরায়েল এ’ধরনের সাতটি স্কুলের উপর আক্রমণ চালায়, বলে অভিযোগ করেছে জাতিসংঘ৷

গাজায় ধ্বংসের চিত্র স্বচক্ষে দেখলেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ভাঙা-গড়া

যুদ্ধের পর অক্টোবর মাসেই ফিলিস্তিনি রাজমিস্ত্রিরা ভাঙা স্কুলবাড়ি মেরামত করতে শুরু করেন৷ এর আগে জাতিসংঘ ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি সরকারের মধ্যে একটি আপোশের ব্যবস্থা করে, যা অনুযায়ী ইসরায়েল গাজা স্ট্রিপে বেসরকারি পুনর্নির্মাণের জন্য সিমেন্ট ইত্যাদি আমদানি করতে দেবে৷

গাজায় ধ্বংসের চিত্র স্বচক্ষে দেখলেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ব্যাপক ধ্বংস

হামাস আর ইসরায়েলের যুদ্ধের পর গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলের এই ছিল দৃশ্য৷ ২০১৪’র অক্টোবর মাসের ছবি৷ মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি তখন কায়রোয় গাজা স্ট্রিপের পুনর্নির্মাণ সংক্রান্ত সম্মেলনের উদ্বোধন করছেন৷

গাজায় ধ্বংসের চিত্র স্বচক্ষে দেখলেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুদ্ধের মূল্য

ফিলিস্তিনি শিশু গাজায় তাদের বাড়ির ধ্বংস্তূপে৷ মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন৷

গাজায় ধ্বংসের চিত্র স্বচক্ষে দেখলেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

এপাশে রকেট, ওপাশে রকেট

ফিলিস্তিনি আল-কাসাম ব্রিগেডের যোদ্ধারা গত ১৪ই ডিসেম্বর হামাস সংগঠনের প্রতিষ্ঠার সাতাশ’তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে কুচকাওয়াজ করছে৷ সঙ্গে প্রদর্শিত হচ্ছে হাতে-তৈরি কাসাম রকেট, যা বারংবার ইসরায়েলের দিকে নিক্ষিপ্ত হয়েছে৷

এমনকি সবুজ দল এবং মুক্ত গণতন্ত্রী পার্টি (এফডিপি)-ও স্টাইনমায়ারের পক্ষে ছিল৷ ফলে তাঁর প্রসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি ছিল একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র৷

প্রসঙ্গত, জার্মানরা সরাসরি ভোট দিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেন না৷ ৬৩০জন জার্মান সাংসদ এবং দেশটির ষোলটি রাজ্যের সমান সংখ্যক প্রতিনিধি বার্লিনে এক বিশেষ অ্যাসেম্বলিতে জড়ো হয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ভোট দেন৷ তবে একজন প্রার্থীকে সব বড় দলের সমর্থন দেয়াটা সচরাচর, বিশেষ করে নির্বাচনের বছর তেমন একটা দেখা যায় না৷ স্টাইনমায়ারের নির্বাচনকে তাই বিবেচনা করা হচ্ছে জার্মানির সবচেয়ে বড় দুই দলের ঐক্যমতে তৈরি বর্তমান সরকারের সর্বশেষ যৌথ সিদ্ধান্ত হিসেবে৷

আগামী জাতীয় নির্বাচনে এসপিডি কার্যতঃ তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী মার্টিন শ্যুলৎসকে চ্যান্সেলর পদে ম্যার্কেলের বিপক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামিয়েছে৷ শরণার্থী ইস্যুতে শক্ত অবস্থান নিয়ে জনপ্রিয়তা হারানো জার্মানির বর্তমান চ্যান্সেলরের পক্ষে সেই নির্বাচনে জয় বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷

এআই/এপিবি (এপি, ডিপিএ)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা রাজীব সম্পর্কে ৮টি অজানা তথ্য।

শরীরের হাড় ক্ষয় করে যে ৪ খাবার

করোনাভাইরাস: মৃত্যু ছাড়াল সাড়ে ৪ হাজার।