এবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি পাঠ্যবই ‘সাম্প্রদায়িকীকরণ:
অল সংবাদ ডেস্ক:
পাঠ্যপুস্তকে সহজপাঠের নামে,সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় বৈষম্যমূলক ,বিষয় অন্তর্ভুক্তির প্রতিবাদে ৩১ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘেরাও করবে প্রগতিশীল সংগঠনগুলো।
একইদিন দেশের প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করা হবে বলে জানিয়েছে তারা।
রোববার জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সামনে বিক্ষুব্ধ অবস্থান সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সমাবেশের সভাপতি বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি সফিউদ্দিন আহমদ বলেন, “শিশুদের পাঠ্যপুস্তকে সহজপাঠের নামে সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় বৈষম্যমূলক বিষয় অন্তর্ভুক্তি, সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর অপকৌশল, উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর দাবি মেনে নিয়ে পাঠ্যপুস্তক থেকে অমুসলিম ও প্রগতিশীল লেখকদের লেখা বাদ দেওয়া, ধর্মান্ধতা ছড়ানোর চক্রান্তের প্রতিবাদ, ভুলে ভরা পাঠ্যবই প্রত্যাহার এবং এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন চলতে থাকবে।”
প্রগতিশীল সংগঠনগুলোর পক্ষে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন পাঠ্যপুস্তক ‘সাম্প্রদায়িকীকরণের’ প্রতিবাদে আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ১৬ জানুয়ারি থেকে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত ‘পাঠ্যপুস্তকের সাম্প্রদায়িকীকরণ ও বিকৃতি সংশোধনের দাবি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিফলনে পাঠক্রম নির্ধারণ ও পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের লক্ষ্যে’ প্রগতিশীল রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোর মধ্যে মতবিনিময় হবে।
একইসঙ্গে পাঠ্যপুস্তক পর্যালোচনা, জনমত গঠন ও বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক সমাবেশের আয়োজন করা হবে।
জামসেদ বলেন, “কেবলমাত্র ভোটের সমীকরণ মাথায় রেখে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর দাবি মেনে নিয়ে পাঠ্যপুস্তকে সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় বৈষম্যমূলক সব উপাদান যুক্ত করেছে। এভাবে শিশুমনেই ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে সাম্প্রদায়িকতার বিষ।
“শিশুদের উদার, মানবিক ও অসাম্পদ্রায়িক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার বিপরীতে এ ধরনের ধর্মীয় বৈষম্যমূলক বিষয় অন্তর্ভুক্তির মধ্য দিয়ে বাঙালির জাতীয় মূল্যবোধকে ধ্বংস করে দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে।”
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে অধ্যাপক এ এন রাশেদা,আদিবাসী যুব পরিষদের সভাপতি হরেন্দ্রনাথ সিং, গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক জীবনানন্দ জয়ন্ত, জনউদ্যোগের সাধারণ সম্পাদক তারিক হোসেন মিতুল, শ্রাবণ প্রকাশনীর মালিক রবিন আহসান, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লাকী আক্তার, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের সংগঠক আতিকুল হক খান এবং প্রগতি লেখক সংঘের কেন্দ্রীয় নেতা রহমান মুফিজ বক্তব্য রাখেন।
‘মুক্তিযুদ্ধবিরোধী দল’ আওয়ামী লীগ ও তার দোসররা বাংলাদেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় পরিচালিত করতে চায় বলে তারা হেফাজতে ইসলামসহ উগ্র ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর সঙ্গে আপস করে পাঠ্যপুস্তকে সাম্প্রদায়িক নানা উপাদান যোগ করেছে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।
অবিলম্বে ‘ভুলে ভরা ও সাম্প্রদায়িক উপাদানে ভরপুর’ সব পাঠ্যপুস্তক প্রত্যাহার করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে সংশোধিত পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নিশ্চিতের দাবি করেন বক্তারা।
মন্তব্যসমূহ