তিস্তায় পানি বাড়ছে।
সারা- প্রান্তর ডেস্ক:
উজানের ধেয়ে আসা পানিতে ফুলে ফেঁপে ওঠা তিস্তা ক্রমেই ভয়াঙ্কর রুপ নিচ্ছে। এরই মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে তিস্তা পাড়ে। বাড়িঘর ছেড়ে পরিবার পরিজন নিয়ে অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন। এদিকে আজ বুধবার তিস্তার পানি থেকে থেকেই বিপদ সীমার ২৫ থেকে ২৭সেঃমিঃ পর্যন্ত ওঠানামা করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশন সূত্র জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। তার পরেও তিস্তার উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্কবস্থায় রাখা হয়েছে। খুলে দেয়া হয়েছে তিস্তা ব্যারাজের সববটি গেট।
তিস্তা পারের স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, তিস্তার উজানে ভারী বর্ষনের কারনে গজলডোবা ব্যারাজের সব গেট খুলে দিযেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। তিস্তা জিরো পয়েন্টের সূত্রগুলি জানায়, প্রচন্ড শব্দ নিয়ে হুহু করে কাদা পানি আছড়ে পড়ছে তিস্তায়।
এদিকে পানি বৃদ্ধির ফলে ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি, ছাতুনামা, ঝাড় সিংহের চর, কিসমত ছাতনাই, উত্তর খড়িবাড়ী, পুর্ব খড়িবাড়ী, দোহল পাড়া, চর খড়িবাড়ী, ভাসানীর চর, টাবুর চর, ছোট খাতা, ভেন্ডাবাড়ী, বাইশ পুকর, ছোট খাতা ও জলঢাকা উপজেলার, গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী বিপাকে পড়েছেন, ছোটখাতা, পশ্চিম বাইশপুকুর, পূর্ব বাইশপুকুর, কিসামত ছাতনাই, পূর্বছাতনাই ঝাড় সিংহেরচর, বাঘেরচর, টাবুর চর, ভেন্ডাবাড়ী, ছাতুনামা, হলদিবাড়ী, একতার চর, ভাষানীর চর, কিসামতের চর, ছাতুনামাসহ চরগ্রামগুলোর হাজার হাজার মানুষ।
পানিতে এলাকার সমস্ত রাস্তা ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় পানি বন্দি মানুষের চরম দূর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সবচেয়ে বেশী। রমজানের এ মাঝামাঝিতে হঠাৎ করে বন্যা সৃষ্টি হওয়ায় বিপদে পড়েছে তিস্তা পাড়ের হাজার হাজার রোজাদার নারী পুরুষ। গতকাল রাতে পানি বৃদ্ধি শুরু হবার ফলে অনেকেই সেহরী খেতে পারেনি। সেহরী না খেয়েই আজ তারা দিন পার করছে।
ওদিকে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নে স্বেচ্ছাশ্রমে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নির্মিত বাধটি ভেঙ্গে হেছে। এ বাধ ভাঙ্গার ফলে ২০ টি গ্রামে তিস্তার পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়া প্রায় চর খড়িবাড়ি গ্রামে ৪ কোটি টাকা ব্যায়ে সদ্য নির্মিত ৫২৫ মিটার বাঁধের ফাটল দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাঁধ নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের ব্লক ব্যবহার করায় পানির সামান্য চাপেই বাঁধ ভেঙ্গে যেতে বসেছে। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, রাতে পানি না বাড়লে আগামী কাল দুপুর নাগাদ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।
মন্তব্যসমূহ